Reported By Binoy Roy
সুতি, মুর্শিদাবাদ: কাজ শেষ হতে না হতেই কার্যত কঙ্কালসার দশা নবনির্মিত রাস্তার। ঢালাইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধুয়ে গিয়েছে সিমেন্টের প্রলেপ, বেরিয়ে পড়েছে বালি-পাথর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় কয়াডাঙ্গা মোড় এলাকায়। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার রাতে সুতি বিধানসভা কেন্দ্র-এর অন্তর্গত কয়াডাঙ্গা মোড়ে ঘটা করে রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ হয়। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে তড়িঘড়ি কাজ শেষ করতে গিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের সিমেন্ট ও সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে এলাকার বাসিন্দারা দেখেন, রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় জল জমে রয়েছে এবং ঢালাই আলগা হয়ে বালি ও পাথর উঠে আসছে। নবনির্মিত রাস্তার এই অবস্থা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা।
কংগ্রেসের অভিযোগ
খবর পেয়েই অনুগামীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কংগ্রেস নেতা জাহাঙ্গীর সেখ।
জাহাঙ্গীরের দাবি,
“সরকারি টাকা নয়ছয় করা হচ্ছে। মানুষের করের টাকায় এই ভাবে প্রহসন চলতে পারে না। রাতের অন্ধকারে নিম্নমানের সিমেন্ট দিয়ে দায়সারা ঢালাই হয়েছে। আমরা চাই এই ঢালাই বাতিল করে অবিলম্বে পাথর দিয়ে শক্তপোক্তভাবে রাস্তা বাঁধাতে হবে।”
তাঁর হুঁশিয়ারি, দ্রুত দাবি মানা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।
স্থানীয়দের বক্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজের মান যাচাই না করেই তড়িঘড়ি রাস্তা উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছিল। তাঁদের কথায়, “এই রাস্তা বর্ষায় টিকবে না। এখনই যদি এই অবস্থা হয়, পরে তো চলাচলই বন্ধ হয়ে যাবে।”
রাজনৈতিক চাপানউতোর
ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের তরফে নেতা ইউসুফ আলি অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কাজের ত্রুটি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে বিজেপি নেতা কৌশিক দাস বলেন, “দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।”
বিধানসভা ভোটের আগে রাস্তার এই হাল নিয়ে সরগরম সুতি। দুর্নীতির অভিযোগে আপাতত উত্তাল কয়াডাঙ্গা এলাকা।