Reported By ;- Manoj Das
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আইসিডিএস কর্মী সমিতির উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির নবম জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো ব্যারাকপুরের নেপালদেব ভট্টাচার্য ও নীলিমা মৈত্র নগরের কমলা নাগ ও রেবা বিশ্বাস মঞ্চে। শশীভূষণ ঘোষ রোডের একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনের সূচনা হয় জেলা সভানেত্রী মলি সিংহের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। এরপর সম্মেলনের কাজ পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সভাপতি মণ্ডলী গঠন করা হয়। সভাপতি মণ্ডলীতে ছিলেন মলিনা ঘোষ, মলি সিংহ, কল্পনা মণ্ডল, শান্তি ঘরামি এবং পারভিন আরা। পাশাপাশি স্টিয়ারিং কমিটি, মিনিটস কমিটি ও ক্রেডেনশিয়াল কমিটিও গঠন করা হয়।
সভাপতি মণ্ডলীর পক্ষ থেকে জেলা সভানেত্রী মলি সিংহ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পেশ করেন কনিকা দাস এবং জেলা কোষাধ্যক্ষ শংকরই বল সম্মেলন মঞ্চে প্রতিনিধিদের সামনে আর্থিক হিসাব তুলে ধরেন।
জেলা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আইসিডিএস কর্মী সমিতির মোট সদস্য সংখ্যা ১০,৩৬৮ জন, যার মধ্যে সক্রিয় সংগঠিত সদস্য রয়েছেন প্রায় ৫,৬০০ জন। জেলার ৩৩টি প্রজেক্ট থেকে মোট ২৩๐ জন প্রতিনিধি এই নবম জেলা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে বক্তব্য রেখে অভিনন্দন জানান পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সভানেত্রী শিলা মণ্ডল। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ সর্বভারতীয় নেত্রী ও সিআইটিইউ উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদিকা গার্গী চ্যাটার্জি। অভ্যর্থনা সমিতির পক্ষ থেকে সম্মেলনকে অভিনন্দন জানান প্রাক্তন ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ও বিশিষ্ট শিক্ষক তড়িৎবরণ তরফদার। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভানেত্রী যশোধরা বাগচী এবং রমলা চক্রবর্তীর বক্তব্যেও উঠে আসে আইসিডিএস কর্মীদের নানান সমস্যা ও দাবি।
সম্মেলনে বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে আগত প্রতিনিধিদের মধ্যে মোট ১৩ জন প্রতিনিধি সম্পাদকীয় প্রতিবেদনের ওপর আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে, আইসিডিএস সেন্টার পরিচালনায় কর্মীরা প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। মোবাইল কেনার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়, তা দিয়ে মোবাইল কেনা সম্ভব হয় না—ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করতে হয়। অথচ একটি অঙ্গীকারনামায় সই করানো হচ্ছে, যেখানে অবসর নেওয়ার পর সেই মোবাইল ফেরত দেওয়ার কথা বলা আছে, ফলে ব্যক্তিগতভাবে খরচ করা টাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়াও বহু সেন্টারে বাথরুমের সমস্যা রয়েছে। শিশুদের খাবার অনেক সময় নিজেদের পয়সা দিয়ে কিনে দিতে হয়, কিন্তু মাসের শেষে সেই টাকা ফেরত পেতে গিয়ে কর্মীরা চরম সমস্যায় পড়ছেন। অন্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে আইসিডিএস কর্মীদের বেতন অত্যন্ত কম, অবসর পরবর্তী সুযোগ-সুবিধাও অপর্যাপ্ত—এই বিষয়গুলিও জোরালোভাবে আলোচিত হয়।
সম্মেলন থেকে আগামী তিন বছরের জন্য উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিচালনার নতুন কমিটি গঠন করা হয়। পুনরায় জেলা সভানেত্রী নির্বাচিত হন মলি সিংহ, সম্পাদিকা হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন কনিকা দাস এবং কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন পারভিন আরা। ১৭ জন সদস্য নিয়ে সম্পাদকমণ্ডলী এবং ৫১ জন সদস্য নিয়ে নতুন জেলা কমিটি গঠিত হয়।
সম্মেলনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সর্বভারতীয় ধর্মঘট সফল করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্দোলন ও ধর্মঘটের সময় আইসিডিএস কর্মীদের যে সমস্যার মুখে পড়তে হয়, তা নিয়েও প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কর্মীদের দাবি, সেন্টার পরিচালনার বাস্তব সমস্যাগুলি অবিলম্বে সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।