বাংলার মাঠ-ঘাট আর প্রান্তরের ধুলোয় মিশে রয়েছে আমাদের শিকড়ের গান। সেই লোকসুরকে খুঁজে পাওয়া, সংগ্রহ করা এবং আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার নিরলস ব্রত নিয়ে ১৯৬২ সাল থেকে কাজ করে চলেছে লোকসংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র ‘ভ্রমরা’। সংস্থার প্রাণপুরুষ শিবব্রত কর্মকারের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ বাংলার লোকগান শুধু রাজ্য বা দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বদরবারেও সমাদৃত। সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে ভ্রমরা।
এই সাংস্কৃতিক ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করতে এবার ভ্রমরার উদ্যোগে বসে গেল লোকসংস্কৃতির এক বিশেষ মিলনমেলা— ‘লোক উৎসব ১৪৩২’। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতার গিরিশ মঞ্চে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে কার্যত বসেছিল লোকসংগীতের চাঁদের হাট।
লোক উৎসবের মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত লোকশিল্পী চন্দনা মজুমদার ও কিরণ চন্দ্র রায়। পাশাপাশি আমানত ফকির ও রীনা দাস বাউলের মায়াবী কণ্ঠে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণী রায় মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কর্ণধার সুব্রত রায়।
এদিন ভ্রমরার পক্ষ থেকে বাংলার একঝাঁক লুপ্তপ্রায় লোকসঙ্গীত ও লোকধারার পরিবেশনা তুলে ধরা হয় মঞ্চে। শিকড়ের টানে এই সন্ধ্যায় গিরিশ মঞ্চে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু সঙ্গীতপ্রেমী ও লোকসংস্কৃতি অনুরাগী মানুষ। লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রসারে ভ্রমরার এই উদ্যোগ যে ভবিষ্যতেও পথ দেখাবে, তা বলাই বাহুল্য।