Reported By Mahatab Chowdhury
কলকাতা, ২৭ অগস্ট ২০২৬: প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক তপন সিনহা এবং বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক বিজয় রায়-এর স্মৃতিকে স্মরণ করে আয়োজিত হল এবারের সুতানুটি ডকুমেন্টারি শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি এই উৎসবে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মানিত করা হয়।
এ বছর সবচেয়ে বিশিষ্ট ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্দেশক হিসেবে সাম্মানিক পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে ……….-কে। তাঁর হাতে বিজয় রায় স্মারক পুরস্কার তুলে দেন প্রয়াত বিজয় রায়ের পৌত্র রোহিতজয় রায়।
এ ডি মুভিজ ইন্টারন্যাশনাল-এর পরিচালনায় গত ২৪ অগস্ট থেকে ২৭ অগস্ট পর্যন্ত কলকাতার নন্দন ৩ প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত হয় স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী। চার দিনের এই চলচ্চিত্র উৎসবে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ভাবনা, বিষয় এবং সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত একাধিক স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের সুতানুটি ডকুমেন্টারি শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে মোট ৬৩টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক এই প্রদর্শনী ঘিরে চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং নির্মাতাদের মধ্যেও ছিল যথেষ্ট আগ্রহ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উৎসবের মূল আয়োজক তথা চলচ্চিত্র পরিচালক অজয়বরণ দে বর্তমান চলচ্চিত্র চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন,
“দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, এখনকার কোনো চলচ্চিত্র পরিচালকই বোধহয় নিজের নির্মিত ছবি ছাড়া অপরের নির্মিত ছবি দেখেন না বা দেখতে চান না।”
অজয়বরণ দে আরও জানান, এবারের চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর আগে প্রত্যেক পরিচালককে অনুরোধ করা হয়েছিল, নিজের ছবি বাদ দিয়ে উৎসবে প্রদর্শিত অন্য কোন ছবি তাঁদের ভালো লেগেছে তা জানাতে। কিন্তু আয়োজকদের দাবি, সেই বিষয়ে কোনো পরিচালকই তাঁদের মতামত জানাননি।
তাঁর কথায়,
“নিজের ছবি বাদে আর কার ছবি ভালো লাগছে সেটা জানাবেন—এই তথ্য আমরা প্রত্যেক চলচ্চিত্র পরিচালকের কাছে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই তথ্য আমাদের কেউ দেয়নি। এটা সত্যি লজ্জার।”
চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি অন্য নির্মাতাদের কাজ দেখা, তা নিয়ে আলোচনা করা এবং পরস্পরের সৃষ্টিশীল ভাবনার আদানপ্রদান যে চলচ্চিত্র চর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ—পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সেই বিষয়টিই কার্যত সামনে নিয়ে আসেন উৎসবের মূল আয়োজক।
চার দিনের এই চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রদান, সম্মাননা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শন নিয়ে আলোচনা—সব মিলিয়ে নন্দন চত্বরে তৈরি হয় চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক এক বিশেষ আবহ।





