আগরপাড়ায় সিপিআইএম ও আরএসপি পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ, প্রতিবাদ মিছিল বামেদের

আগরপাড়ায় সিপিআইএম ও আরএসপি পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ, প্রতিবাদ মিছিল বামেদের

Reported By:- Binoy Roy

প্রাইভেট টিউশন পড়ানোর সময় একাধিক ছাত্রকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে বহরমপুরে এক সরকারি স্কুলের প্যারা টিচারকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃত শিক্ষকের নাম পীযূষ রুদ্র। তিনি বহরমপুরের একটি নামী সরকারি স্কুলের ভৌতবিজ্ঞান বিভাগের প্যারা টিচার হিসেবে কর্মরত বলে জানা গিয়েছে।

অভিযোগ, প্রাইভেট টিউশনের ব্যাচে পড়তে আসা একাধিক ছাত্রকে বিভিন্ন সময়ে যৌন হেনস্থা করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নিগৃহীত ছাত্রদের পরিবারের পক্ষ থেকে বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে মোল্লাগেড়ের ধার এলাকার বাড়ি থেকে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে বহরমপুর থানার পুলিশ। পরে তাঁকে বহরমপুর আদালতে পেশ করার কথা জানা যায়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষকের কাছে পড়তে যাওয়া কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করা হয়েছে। নবম শ্রেণির এক ছাত্রের মায়ের দাবি, প্রায় দেড় মাস আগে ভৌতবিজ্ঞান ভালো পড়ান জানতে পেরে তিনি ছেলেকে ওই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট টিউশনে ভর্তি করেছিলেন। অভিযোগ, কয়েকদিন পর অন্যান্য ছাত্রদের ছুটি দিয়ে তাঁর ছেলেকে বাড়িতে অপেক্ষা করতে বলা হয় এবং একটি দেওয়াল ঘড়ি নামানোর সময় তাকে যৌন হেনস্থা করা হয়। পরে আরও একাধিকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।

ওই ছাত্রের মায়ের দাবি, ভয়ে তাঁর ছেলে প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। পরে অন্য এক ছাত্রের মায়ের কাছ থেকে একই ধরনের অভিযোগের কথা জানতে পেরে ছেলের সঙ্গে কথা বললে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং ঘটনার কথা জানায় বলে পরিবারের দাবি।

অন্যদিকে, দশম শ্রেণির আরও এক ছাত্রের মায়ের অভিযোগ, তাঁর ছেলে অষ্টম শ্রেণি থেকে ওই শিক্ষকের কাছে পড়ত। দশম শ্রেণিতে ওঠার পর শিক্ষক তাকে যৌন হেনস্থা করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। ছাত্র প্রতিবাদ করলে বাড়িতে জানালে খারাপ হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও পরিবারের দাবি।

ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়ির সামনে বহু অভিভাবক জড়ো হন। তাঁরা শিক্ষকের গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায় এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, কয়েক বছর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্র এবং তার মাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেই সময় লিখিত অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় পুলিশি মামলা এগোয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। এই পূর্বের অভিযোগের সত্যতা ও বর্তমান মামলার সঙ্গে তার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। কতজন ছাত্র এই ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছে, অভিযোগের পিছনে কতটা সত্যতা রয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দোষী বলা যাবে না।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহরমপুরে অভিভাবক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহলে।

Leave a Reply

Translate »