Reported BY:- MD. Jakaria


উত্তর দিনাজপুরের করণদীঘিতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে এক বৃদ্ধকে আটক করে রাখার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন জলিল আখতার। তাঁর কাছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড-সহ একাধিক নথি রয়েছে। এমনকি চলতি বছর তিনি ভোটও দিয়েছেন বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৯ জুন রাতে পুলিশ বাড়ি থেকে জলিল আখতারকে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও বাড়ি ফেরেননি বলে দাবি তাঁদের।
পরিবারের আরও দাবি, আদালতের প্রক্রিয়াতেও জলিল আখতারকে বাংলাদেশের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েই তৈরি হয়েছে আরও জটিলতা। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।
জলিলের স্ত্রী তোফা বিবি স্বামীর আটক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, স্বামী যদি এ দেশেরই বাসিন্দা হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে রাতে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হল কেন এবং এতদিন পরেও কেন তিনি বাড়ি ফিরতে পারছেন না—এই প্রশ্নের উত্তর চান তিনি।
পরিবারের দাবি, জলিল আখতার কখনও বাংলাদেশে যাননি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ দেশেই বসবাস করছেন বলেও দাবি তাঁদের। সেই কারণে তাঁর কাছে থাকা ভোটার কার্ড, আধার, রেশন কার্ড-সহ অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখে নাগরিকত্বের বিষয়টি দ্রুত স্পষ্ট করার আবেদন জানিয়েছে পরিবার।
ঘটনাকে ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন উঠছে, জলিল আখতারের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথির প্রকৃত অবস্থান কী এবং প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরিবারের তরফে দ্রুত নথি যাচাই করে বিষয়টির নিষ্পত্তি এবং জলিল আখতারকে বাড়ি ফেরানোর দাবি জানানো হয়েছে। তবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত বক্তব্য জানা না পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

