Reported By:- Binoy Roy
মালদায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক। সাংবাদিক বৈঠকে প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলের টিকিটে জিতে পঞ্চায়েতের প্রধানের চেয়ারে বসেছেন আরও এক মহিলা। তাঁর দাবি, বৈষ্ণবনগর এলাকার গোলাপগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান চেমানি বিবি আদতে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। অভিযোগটি অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও সরকারি তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় এক পঞ্চায়েত সদস্যের তরফেও এই অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর কথাও সামনে এসেছে।
অন্যদিকে, মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি অগস্টে এখনও পর্যন্ত ৮৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জুলাই মাসে এই সংখ্যা ছিল ৮৭। ২০২৫ সালের অগস্টে ১০০ শিশুর মৃত্যুর তথ্যও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের একটি দল মালদা মেডিক্যালে যাচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এখানে বহু আশঙ্কাজনক ও রেফার করা শিশু আসে, ফলে মৃত্যুর সংখ্যার সঙ্গে রোগীদের শারীরিক অবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়।
এদিকে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস সংক্রান্ত বিতর্কও গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী নির্দেশের আবেদন করা হলেও, এই মুহূর্তে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি আদালত। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর পর্যবেক্ষণ, বোর্ড ইতিমধ্যেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তাই এই মুহূর্তে রক্ষাকবচ দেওয়ার জায়গা নেই। ভবিষ্যতে বেআইনিভাবে কোনও সম্পত্তি ভাঙা না হয়, সেই বিষয়ে সামগ্রিক নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও আদালতে করা হয়েছিল।
ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে ঘিরে এর আগে কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের সঙ্গে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের উত্তেজনা এবং ধস্তাধস্তির ঘটনাও সামনে আসে। পুরসভার দাবি ছিল, অফিসের ছাদে থাকা বিলবোর্ডটি নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় তা সরানো হয়েছে। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে অভিযানে আপত্তি জানানো হয়।
এদিকে কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি কুখ্যাত জঙ্গি আফতাব আনসারির সেল থেকে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনায়ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তল্লাশিতে আইফোন-সহ একাধিক স্মার্টফোন, ওয়াই-ফাই রাউটার, হটস্পট ডিভাইস, পেনড্রাইভ এবং নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। বিশেষ নজরদারিতে থাকা এক বন্দির সেলে এত ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম কীভাবে পৌঁছল, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
অন্যদিকে দুর্গাপুজোর থিম নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্যও সামনে এসেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, থিমের প্যান্ডেল তৈরির বিরোধিতা তারা করছে না; তবে থিমের নামে যেন সংস্কৃতির অবক্ষয় না হয়, সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। পুজোর পরিবেশ ও ঐতিহ্য বজায় রাখার পক্ষেও মত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসকে ঘিরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অফিস জবরদখলের অভিযোগও সামনে এসেছে। ২০২০ সালের চুক্তি এবং পরবর্তী সময়ে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বাড়ির মালিক পক্ষের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিলবোর্ড লাগানো এবং অফিসের জায়গা ব্যবহারের বিষয় নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ভোটের সময় একসঙ্গে জোট, আর ভোটের পরেই সংঘর্ষ—ভাঙড়ে CPI(M)-ISF-এর বিবাদ নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
এছাড়াও দুই সাংসদ আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমানকে বিজেপির মঞ্চে দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তাঁদের তরফে দাবি করা হয়েছে, তাঁরা বিজেপি বা NDA-র সঙ্গে যুক্ত হননি।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার অভিযোগ, মালদা মেডিক্যালে শিশু মৃত্যু, ক্যামাক স্ট্রিট বিতর্ক, প্রেসিডেন্সি জেলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার এবং রাজনৈতিক সংঘাত—একাধিক ইস্যুতে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

