ইউ.এস. কনস্যুলেটের প্রধানের শুভেচ্ছা: হিন্দু সৎকার সমিতির স্বীকৃতি

ইউ.এস. কনস্যুলেটের প্রধানের শুভেচ্ছা: হিন্দু সৎকার সমিতির স্বীকৃতি

Reported By:- News Desk

হিন্দু সৎকার সমিতিতে U.S.A. Consulate–এর প্রতিনিধিদের সৌজন্য সফর — ১৯৩২ সালের ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের মানবিক কাজের প্রতি আন্তর্জাতিক কৃতজ্ঞতার অর্ঘ্য

বেলঘরিয়া | ১৯ নভেম্বর ২০২৫:
এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল হিন্দু সৎকার সমিতি। আজ সমিতির কার্যালয়ে হাজির হলেন U.S.A. Consulate–এর Chief of the Staff Mr. Warren Newton ও তাঁর দুই সহযোগী। ১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই তাঁদের এই বিশেষ সফর।

সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠকে Mr. Newton স্পষ্ট করে জানান—হিন্দু সৎকার সমিতি শুধু একটি সংগঠন নয়, বরং মানবিকতার এক অনবদ্য প্রতীক। সমাজের আর্থ–সামাজিক প্রেক্ষাপটে যাঁরা অসহায় অবস্থায় পড়েন, তাদের শেষযাত্রায় মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার যে মহান দায়িত্ব এই সমিতি বহন করে চলেছে, তা আন্তর্জাতিক মহলেও গভীরভাবে প্রশংসিত।

U.S.A. Consulate এই সফরকে একটি “Acknowledgement Visit” হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এর মূল লক্ষ্য ছিল—

  • হিন্দু সৎকার সমিতির ৯৩ বছরের নিরবিচ্ছিন্ন মানবিক সেবাকে স্বীকৃতি দেওয়া

  • সমিতির কর্মকাণ্ড ও কার্যপ্রণালী কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করা

  • ভবিষ্যতে মানবিক কাজে যুক্ত সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সহায়তার পথ তৈরি করা

  • ভারতীয় সামাজিক কাঠামোর এই বিশেষ অংশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা

Mr. Newton বলেন:
“Your service is not only social duty, it is a noble responsibility that keeps humanity alive. We are grateful for what you do.”

🔶 সমিতির ইতিহাস: ১৯৩২ থেকে আজ

হিন্দু সৎকার সমিতির যাত্রা শুরু ১৯৩২ সালে। সেই সময় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দরিদ্র পরিবারগুলোর শেষকৃত্যের ব্যয় বহন করায় তারা নিয়মিত সমস্যায় পড়তেন। মানবিকতা ও ধর্মীয় কর্তব্যবোধ থেকে কয়েকজন সমাজসেবী একত্রিত হয়ে এই সংস্থার প্রতিষ্ঠা করেন।
আজও সমিতি—

  • অর্থসঙ্কটে থাকা পরিবারের সৎকারের দায়িত্ব নেয়

  • মৃতদেহ বহন, কাঠ–ব্যবস্থা, সৎকারের সমস্ত প্রয়োজনীয় কাজে সাহায্য করে

  • সামাজিক–ধর্মীয় রীতিনীতি বজায় রেখে সম্মানের সঙ্গে শেষযাত্রা সম্পন্ন করে

এই দীর্ঘ পথচলায় বহু পরিবার বলেছে—“শেষ মুহূর্তে পাশে পেয়েছি শুধু এই সমিতিকে।”


🔶 আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা

সৌজন্য বৈঠকে সমিতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য উপস্থিত ছিলেন—

  • শম্ভু নাথ গাঙ্গুলী

  • রাজীব শঙ্কর বিদ

  • সব্যসাচী ঘোষ

  • সন্দীপ মুখার্জি

  • সঞ্জয় রায়

  • চন্দন ঘোষ

  • মৃত্যুঞ্জয় রায়

  • অলোক দে

  • অজয় পাল

  • হিজল চ্যাটার্জি
    সহ আরও অনেকে।

তাঁরা জানান, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সমিতির ৯৩ বছরের অক্লান্ত প্রয়াসের মর্যাদা এনে দিয়েছে।


🔶 সমিতির কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

সমিতির এক কর্তা বলেন—
“আমরা কাউকে শেষযাত্রায় একা হতে দিই না। U.S.A. Consulate আমাদের কাজকে স্বীকৃতি দিয়েছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

আরেকজনের কথায়—
“মানুষের শেষমুহূর্তে সাহায্য করার মতো সেবা আর কিছু নেই। আজকের স্বীকৃতি আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিল।”


🔶 সফরের তাৎপর্য

আজকের সফর কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়—
এটি প্রমাণ করে যে মানবিক কাজের কোনও সীমান্ত নেই
যে কাজ আন্তর্জাতিক মহলে সম্মান এনে দেয়—সেটি প্রকৃত সমাজসেবার পরিচয়।

U.S.A. Consulate–এর প্রতিনিধিদের এই সফর ভবিষ্যতে
🔸 আরও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
🔸 সামাজিক সেবায় যৌথ উদ্যোগ
🔸 ও মানবিক কার্যক্রমের পরিসর বৃদ্ধি
—এগুলোর ইঙ্গিতও রেখে গেল।

Leave a Reply

Translate »