Reported By:- Manoj Das
বোমা-গুলির শব্দ নয়, উচ্চাঙ্গ সংগীতের সুরে, সেতার-তবলার তাল এবং ভারতনাট্যমের ছন্দে ব্যারাকপুরকে নতুনভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ। ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর উদ্যোগে ব্যারাকপুরের সুকান্ত সদনে শুরু হল দু’দিনের বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শনিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই সাংস্কৃতিক আয়োজন। শনিবার ও রবিবার—দু’দিন ধরে চলবে অনুষ্ঠান। আয়োজনে থাকছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের পাশাপাশি সেতার, তবলা, বাঁশি, ভারতনাট্যম-সহ বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শনিবার ব্যারাকপুর সুকান্ত সদনে কার্যত তারকারহাট বসে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী, তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তরের মন্ত্রী, পর্যটন মন্ত্রী, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি, বিভিন্ন বিধায়ক এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যারাকপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং প্রতিভাকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরাই এই অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্দেশ্য। শহর ও শহরতলির মানুষকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত করার লক্ষ্যেও এই ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তা তথা ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী বলেন, ব্যারাকপুর অঞ্চলকে শুধু বোমা-গুলির শব্দ বা রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে নয়, বরং সুর, সংগীত ও সংস্কৃতির সঙ্গেও মানুষের কাছে পরিচিত করাতে চান তিনি। তাঁর বক্তব্য, যে অঞ্চলের সঙ্গে নানা সময় অশান্তির খবর জড়িয়ে থাকে, সেই ব্যারাকপুরের মানুষের কাছে সংস্কৃতির মাধ্যমে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যারাকপুরের সাংস্কৃতিক পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্যের সঙ্গে পরিচিত করে তোলারও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
দু’দিনের এই অনুষ্ঠানে সেতার, তবলা ও বাঁশির মতো শাস্ত্রীয় বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনার পাশাপাশি উচ্চাঙ্গ সংগীত ও ভারতনাট্যম দর্শকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশা আয়োজকদের।
ব্যারাকপুরের পরিচিতির সঙ্গে এবার নতুন করে যুক্ত হতে চলেছে সুর, তাল, লয় ও সংস্কৃতির বার্তা। রাজনৈতিক উত্তেজনা কিংবা অশান্তির বদলে সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ব্যারাকপুরকে মানুষের সামনে তুলে ধরার এই উদ্যোগ আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেদিকেই নজর।

