SMART PDS-এ একের পর এক প্রযুক্তিগত সমস্যা, দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারদের

SMART PDS-এ একের পর এক প্রযুক্তিগত সমস্যা, দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারদের

Reported By Mahatab

কলকাতা, ২৯ আগস্ট ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে চালু হওয়া SMART PDS ব্যবস্থাকে ঘিরে একাধিক প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল সমস্যার অভিযোগ সামনে আনল All India Fair Price Shop Dealers Federation। সংগঠনের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Food & Supplies Department-এর সচিবের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার একাধিক ত্রুটির কারণে প্রতিদিনের রেশন পরিষেবা পরিচালনায় সমস্যার মুখে পড়ছেন Fair Price Shop বা FPS ডিলাররা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে সাধারণ উপভোক্তাদের রেশন পাওয়ার ক্ষেত্রেও।

সংগঠনের পক্ষ থেকে ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দেওয়া চিঠিতে জানানো হয়েছে, SMART PDS চালু হওয়ার পর থেকেই বেশ কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট IT Cell এবং আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ ও আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, বারবার বিষয়গুলি জানানো সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি সমস্যা এখনও পুরোপুরি সমাধান হয়নি। ফলে FPS-এর দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

চিঠিতে সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, Public Distribution System-কে আধুনিকীকরণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানায়। তবে প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মটি এমনভাবে কাজ করা প্রয়োজন, যাতে বাস্তব পরিস্থিতিতে রেশন দোকান পরিচালনার ক্ষেত্রে ডিলারদের সমস্যা না হয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রাপ্য খাদ্যশস্য সময়মতো পান।

OTP-ভিত্তিক Dealer Login বন্ধ কেন?

চিঠিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলির মধ্যে প্রথমেই উঠে এসেছে OTP-based Dealer Login-এর বিষয়টি।

সংগঠনের অভিযোগ, বর্তমানে OTP-র মাধ্যমে Dealer Login-এর সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ কোনও কারণে biometric authentication কাজ না করলে বা বাস্তব পরিস্থিতিতে biometric authentication করা সম্ভব না হলে OTP authentication একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে।

তাই দ্রুত OTP-based Dealer Login পুনরায় চালু বা সক্রিয় করার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, authentication সংক্রান্ত সমস্যার কারণে যেন কোনও প্রকৃত উপভোক্তা তাঁর প্রাপ্য রেশন থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ওজন মাপার ক্ষেত্রে ৫০ গ্রাম থেকে ১০ গ্রাম টলারেন্স—ডিলারদের আপত্তি

SMART PDS ব্যবস্থায় Integrated Weighing Scale-এর tolerance limit নিয়েও গুরুতর আপত্তি জানিয়েছে সংগঠন।

চিঠি অনুযায়ী, আগে weighing scale-এর tolerance limit ছিল ±৫০ গ্রাম। বর্তমানে সেটি কমিয়ে ±১০ গ্রাম করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, বাস্তব FPS পরিচালনার ক্ষেত্রে মাত্র ১০ গ্রামের tolerance বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন।

কারণ সঠিক পরিমাণে খাদ্যশস্য ওজন করার পরেও পরিবেশগত বিভিন্ন স্বাভাবিক কারণে ওজনের সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। যেমন—সিলিং ফ্যানের বাতাস, weighing platform-এর vibration অথবা আশপাশে মানুষের চলাচলের মতো বিষয়ও ওজনের ক্ষেত্রে সামান্য ওঠানামা তৈরি করতে পারে।

এর ফলে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ওজন আনতে বারবার চেষ্টা করতে হচ্ছে এবং প্রতিটি লেনদেনে অপ্রয়োজনীয় সময় লাগছে বলে সংগঠনের দাবি।

এই পরিস্থিতিতে আগের ±৫০ গ্রাম tolerance limit, অথবা Department-এর বিবেচনায় প্রযুক্তিগতভাবে যুক্তিসঙ্গত কোনও tolerance limit পুনর্বহালের আবেদন জানানো হয়েছে।

৯ সংখ্যার রেশন কার্ডে ‘0’ না দিলে সমস্যা

SMART PDS-এ আরও একটি সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে ৯ সংখ্যার রেশন কার্ড নম্বর নিয়ে।

সংগঠনের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু ৯-digit RKSY ration card number সিস্টেম নিজে থেকে সঠিকভাবে চিনতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে রেশন কার্ড নম্বরের আগে ‘0’ prefix manually enter করতে হচ্ছে।

আগের ব্যবস্থায় এই prefix স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে যেত বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ডিলারদের দাবি, আগের auto-prefix functionality পুনরায় চালু করা হোক, যাতে রেশন কার্ড শনাক্তকরণ আরও সহজ হয় এবং transaction error কমে।

Part Receive/Reject নিয়েও সমস্যা

নতুন e-POS ব্যবস্থায় Part Receive/Reject facility প্রত্যাশিতভাবে কাজ করছে না বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনও ক্ষেত্রে system-generated quantity-এর থেকে আলাদা পরিমাণ পণ্য বাস্তবে গ্রহণ করা হলেও ‘Received’ column-এ সেই বাস্তবে গ্রহণ করা পরিমাণের পরিবর্তে সিস্টেম-generated quantity-ই রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে।

এর ফলে ভবিষ্যতে stock accounting এবং reconciliation-এর ক্ষেত্রে অসঙ্গতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাই Part Receive/Reject functionality পরীক্ষা করে দ্রুত সংশোধন করার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে বাস্তবে যত পরিমাণ খাদ্যশস্য গ্রহণ করা হয়েছে, সিস্টেমে ঠিক সেই পরিমাণই রেকর্ড হয়।

Deactivated Digital Ration Card নিয়েও e-KYC সমস্যা

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হল Deactivated Digital Ration Cards বা DRC নিয়ে।

সংগঠনের বক্তব্য, বর্তমানে FPS ডিলাররা e-KYC করার সময় কিছু deactivated DRC সিস্টেমে শনাক্ত করতে পারছেন না।

এর ফলে যোগ্য উপভোক্তাদের যথাযথভাবে শনাক্ত করা এবং তাঁদের e-KYC সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বাধা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তাই eligible beneficiaries-দের যথাযথভাবে শনাক্ত করে যাতে কোনও প্রযুক্তিগত বাধা ছাড়াই e-KYC সম্পন্ন করা যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় system-level provision করার আবেদন জানিয়েছে সংগঠন।

SMART PDS-এর ত্রুটির প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের রেশনে

সংগঠনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু FPS ডিলারদের সমস্যা নয়, বরং এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সাধারণ উপভোক্তাদের রেশন পাওয়ার বিষয়টি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, SMART PDS-এর কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে সেই সমস্ত মানুষদের উপর, যারা Public Distribution System-এর মাধ্যমে তাঁদের প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের উপর নির্ভরশীল।

বিশেষ করে উৎসবের মরশুম এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতির আগে এই সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হয়েছে।

দ্রুত IT Cell-কে দিয়ে সমস্যাগুলি সমাধানের আবেদন

এই পরিস্থিতিতে সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Food & Supplies Department-এর কাছে আবেদন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট IT Cell ও technical team-কে নির্দেশ দিয়ে SMART PDS-এর সমস্যাগুলি জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা ও time-bound manner-এ সমাধান করা হোক

তাদের বক্তব্য, ডিজিটাল রূপান্তরের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত Public Distribution System-কে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর এবং beneficiary-friendly করে তোলা। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে যেন FPS ডিলার বা সাধারণ উপভোক্তা কেউই অযথা সমস্যায় না পড়েন, সেটিই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, FPS ব্যবস্থার আর্থিক স্থায়িত্বের বিষয়ও সামনে

সংগঠনের নথিতে SMART PDS-এর বৃহত্তর রূপান্তরের সঙ্গে FPS dealer margin, minimum income guarantee, handling loss, Tide-over allocation, Jan Poshan Kendra, Banking Correspondent, Common Service Centre এবং citizen services-এর মতো বিষয়গুলিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থাৎ, সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র প্রযুক্তি পরিবর্তন করলেই PDS-এর আধুনিকীকরণ সম্পূর্ণ হবে না। মাঠপর্যায়ে রেশন দোকানগুলির কার্যকারিতা, ডিলারদের আর্থিক স্থায়িত্ব এবং সাধারণ মানুষের কাছে নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা—এই সমস্ত বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চিনির দাম নিয়ন্ত্রণেও FPS নেটওয়ার্ক ব্যবহারের প্রস্তাব

একই নথিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও Fair Price Shop network-এর মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত দামে চিনি বিতরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের বক্তব্য, দেশের সর্বস্তরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত FPS নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করে চিনি বিতরণ করা হলে তা মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে চিনি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। এই কাজের জন্য বর্তমান margin ও handling loss-এর বিষয় বিবেচনা করে FPS ডিলারদের যুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে জরুরি বৈঠকেরও আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ে তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং distribution network-এর বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় FPS-দের আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা যায়।

GTV Live News-এর সারসংক্ষেপ

SMART PDS-এর উদ্দেশ্য ডিজিটাল ও আধুনিক Public Distribution System তৈরি করা হলেও, বাস্তবে প্রযুক্তিগত একাধিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে পরিষেবা পরিচালনা নিয়ে। OTP Dealer Login, biometric authentication-এর বিকল্প ব্যবস্থা, weighing scale-এর tolerance, ration card number recognition, Part Receive/Reject এবং e-KYC—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দ্রুত প্রযুক্তিগত সমাধানের দাবি উঠেছে।

এখন নজর থাকবে Food & Supplies Department ও সংশ্লিষ্ট IT Cell এই সমস্যাগুলির সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়, এবং তার ফলে রাজ্যের FPS ডিলার ও সাধারণ রেশন উপভোক্তারা কত দ্রুত স্বস্তি পান।

সূত্র: All India Fair Price Shop Dealers Federation-এর সংশ্লিষ্ট চিঠি ও নথি।

Leave a Reply

Translate »