আমি খুব আনন্দিত মমতা ও তৃণমূলের বাংলা থেকে উচ্ছেদ হয়েছে

আমি খুব আনন্দিত মমতা ও তৃণমূলের বাংলা থেকে উচ্ছেদ হয়েছে

Reported By Binoy Roy

বিজেপির পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথযাত্রা, মমতার ১০০ আসন চুরির অভিযোগ, নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক হিংসা, ইন্ডিয়া জোটের ভাঙন-সহ একাধিক ইস্যুতে মুখ খুললেন কংগ্রেস নেতা ও সদ্য প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীর চৌধুরী। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, ফলাফল জনআদালতের রায় এবং এখন সময় এসেছে নতুন বাস্তবতা মেনে নেওয়ার।

মূল পয়েন্টসমূহ

১. ইতিহাস গড়ল বিজেপি, মমতার চুরির অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন অধীর

অধীর চৌধুরী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০০ আসন চুরির যে অভিযোগ করছেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি সরকার গড়তে যাচ্ছে – এটাই গণতন্ত্রের রায়।” তিনি মনে করেন, নির্বাচন পরবর্তী অভিযোগের চেয়ে ফলাফল মেনে নেওয়াই শ্রেয়।

২. গেরুয়া ঝড় কীভাবে দেখছেন?

তিনি স্বীকার করেন, “এবারের ভোটে গেরুয়া ঝড় বয়ে গেছে। জনগণ বদল চেয়েছে, বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। অন্য রাজ্যের ফলাফলের সঙ্গে বাংলার এই ফলাফল তুলনীয়।”

৩. নির্বাচনোত্তর হিংসা – এটাই কি পরিবর্তনের সরকার?

অধীর চৌধুরী বলেন, “ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল অফিস দখল, কর্মীদের মারধর – এটা মেনে নেওয়া যায় না। পরিবর্তনের নামে যদি অরাজকতা আসে, তাহলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে।”

৪. মমতার পদত্যাগপত্র নিয়ে জল্পনা

তিনি জানান, “এখনও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেননি। এটা এক ধরনের সাংবিধানিক শিষ্টাচার ও বাস্তবতা উপেক্ষা করার সামিল।”

৫. নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা

অধীরের মতে, “মানুষ বিজেপির কাছে কাজ চাইবে – উন্নয়ন, শান্তি, কর্মসংস্থান। তাঁদের অপেক্ষা শেষ হয়েছে, এখন ফলাফল চাইবে।”

৬. হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে গার্ড রেল সরানো

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে গার্ড রেল সরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা স্বাভাবিক ব্যবস্থা। এখন সাধারণ মানুষ ও গাড়ি বিনা বাধায় চলাচল করতে পারবে। এটাকে রাজনৈতিক ইঙ্গিত না দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বলেই দেখছি।”

৭. ইন্ডিয়া জোট ছন্নছাড়া

অধীর চৌধুরী কটাক্ষ করে বলেন, “বাংলা, তামিলনাড়ু, অসমে পরাজয়ের পর রাতারাতি ইন্ডিয়া জোটের সমীকরণ পাল্টাচ্ছে। অমৃতকালের আগেই জোট প্রায় মৃতপ্রায়।”

৮. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ধমকানি-চমকানি’

তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনপূর্ব প্রচার ও ‘ধমকানি’-কে অধীর চৌধুরী “ফাপা হুমকি” বলে উল্লেখ করেন। “যাঁরা জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তাঁদের এখন জবাব দিয়েছে মানুষ।”

৯. অধীর চৌধুরী হেরেও জেলায় আসন

অধীর নিজে বেহরামপুরে হেরে গেলেও তাঁর জেলা মুর্শিদাবাদ থেকে দুটি আসন পেয়েছে দল। তিনি বলেন, “আমার হার মেনে নিয়েছি, কিন্তু দলবদ্ধ লড়াই অব্যাহত থাকবে। জয় যাঁরই হোক, শান্তি জরুরি।”

১০. হুমায়ুন কবিরের জয় প্রসঙ্গে

হুমায়ুন কবির জয় পাওয়ায় অধীর চৌধুরী বলেন, “এটি উদাহরণ যে সঠিক প্রার্থী ও সঠিক বার্তা থাকলে ফল পাওয়া যায়। নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে।”

অধীর চৌধুরী বাংলায় বিজেপির এই অভিযানকে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন বললেও নির্বাচনোত্তর হিংসার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি নতুন সরকারের প্রতি সহযোগিতার পাশাপাশি কঠোর বিরোধিতা করার বার্তাও দিয়েছেন।

Leave a Reply

Translate »