সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন-শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং বিভিন্ন বহুল আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক মন্তব্য করেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের বর্তমান অবস্থার জন্য কিছু নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর অভিযোগ, অতীতে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির রাজনৈতিক আশ্রয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলেছে এবং সেই কারণেই আজ দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২১ জুলাইয়ের তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মসূচি নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। আদালতে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সম্ভাব্য জনসমাগমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সীমিত হয়, তাহলে নির্দিষ্ট স্থান নিয়েই এত জোর দেওয়ার কারণ কী।
কসবায় সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা নারী পাচার চক্রের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া প্রয়োজন।
গুন্ডা দমন আইন প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন, শুধুমাত্র নতুন আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, প্রশাসনের সর্বস্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, দুর্নীতির অভিযোগ কোনও নির্দিষ্ট পদে সীমাবদ্ধ নয়; প্রশাসনের যেকোনও স্তরেই অনিয়ম হতে পারে, তাই নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা জরুরি।
রাজ্য সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি তদন্তে কমিশন গঠন এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে নতুন কমিশনের গেজেট প্রকাশের বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, কমিশন গঠন তখনই অর্থবহ হবে, যখন তার সুপারিশ বাস্তবায়িত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামশেরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিষয়, কামদুনি মামলায় নির্যাতিতার পরিবারের বক্তব্য এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি প্রতিক্রিয়া জানান। পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গেও বলেন, দল নিশ্চয়ই নিজেদের অবস্থান বিবেচনা করেই সেই মন্তব্য করেছে।
সাংবাদিক বৈঠকে অধীর চৌধুরী দাবি করেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

