আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। পুজোর আগমনী বার্তার মতোই রাজনৈতিক ময়দানেও যেন বেজে উঠেছে নির্বাচনের ঢাক। সেই প্রেক্ষাপটে কামারহাটি বিধানসভা এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এলাকার বিধায়ক মদন মিত্র।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক রণকৌশলকে আরও মজবুত করতে এবার তিনি পাড়ায় পাড়ায় শুরু করেছেন বৈঠকি সভা। স্থানীয় কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেই সংগঠনকে চাঙা করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে।
বৈঠকি সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উত্তরবঙ্গের বিজেপি বিধায়কদের তৃণমূলে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন কামারহাটির বিধায়ক। তিনি বলেন, বিজেপি বরাবরই উত্তরবঙ্গকে তাদের শক্ত ঘাঁটি বলে দাবি করে এসেছে। তবে আগামী দিনে সেই বিজেপির ঘাঁটিই ‘বড়ফুল’ থেকে ‘ঘাসফুলের ঘাঁটিতে’ পরিণত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে আগামী ২৮ এপ্রিল নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। কিন্তু সেই তালিকা প্রকাশের আগেই এখনও এক লক্ষেরও বেশি সংশোধনযোগ্য নাম রয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সামনে নির্বাচন থাকায় গোটা প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
এই প্রসঙ্গে মদন মিত্র জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নজরদারিতে রয়েছে এবং তিনিই গোটা বিষয়টি দেখভাল করছেন।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সাম্প্রতিক জনসভা থেকে শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ-কে ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে, তা নিয়েও কটাক্ষ করতে শোনা যায় কামারহাটির বিধায়ককে। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাবেই এই ধরনের মন্তব্য উঠে আসছে এবং কোন প্রসঙ্গে কী বলা উচিত, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

