“পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ চলবে না!” সোদপুরে রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কলতান-গার্গী !

“পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ চলবে না!” সোদপুরে রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কলতান-গার্গী !

Reported By:- Manoj Das

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন রেল স্টেশন ও ফুটপাত এলাকায় হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নোটিশ জারি করা হয় সোদপুর স্টেশনের হকারদের উদ্দেশ্যে। নোটিশে জানানো হয়, স্টেশন চত্বর থেকে সমস্ত হকারদের উচ্ছেদ করা হবে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্ক ছড়ায় সোদপুর স্টেশনের শতাধিক হকার পরিবারের মধ্যে।

রেল কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য উচ্ছেদ অভিযান ঠেকাতে বুধবার রাত থেকেই স্টেশন পাহারা দেওয়া শুরু করেন পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নের সদস্যরা। সোদপুর স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে রাত জেগে নিজেদের দোকান ও সামগ্রী পাহারা দেন হকাররা। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, গভীর রাতে অথবা ভোরবেলায় রেল কর্তৃপক্ষ হঠাৎ অভিযান চালাতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ সোদপুর স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে শুরু হয় হকারদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। উপস্থিত ছিলেন সিআইটিইউ-র সর্বভারতীয় নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জি, যুব আন্দোলনের সর্বভারতীয় নেতা ও পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত, সিআইটিইউ নেতা ঝন্টু মজুমদার, সিপিআইএম উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য অনির্বাণ ভট্টাচার্য, হকার আন্দোলনের রাজ্য নেতা রঞ্জিত সরকার, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের জেলা সম্পাদক নবেন্দু দাশগুপ্ত সহ একাধিক নেতৃত্ব।

দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভের পর হকাররা একটি বিশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি সোদপুর স্টেশন থেকে বেরিয়ে নীলগঞ্জ রোড ঘুরে স্টেশনের সবকটি প্ল্যাটফর্ম পরিক্রমা করে পুনরায় এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে। পরে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠকে বসে।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন গার্গী চ্যাটার্জি, কলতান দাশগুপ্ত, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, নবেন্দু দাশগুপ্ত, বাপি কুশারী ও গোপাল কুণ্ডু। তাঁদের দাবি, পুনর্বাসন ছাড়া কোনোভাবেই হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে জীবিকা নির্বাহ করা হকারদের সরকারি লাইসেন্স দেওয়ারও দাবি তোলা হয়।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, “আমরা চুরি করছি না, হকারি করে পরিবার চালাচ্ছি। রেলের উন্নয়নের বিরোধী নই, কিন্তু উন্নয়নের নামে হাজার হাজার পরিবারের পেটে লাথি মারা চলবে না।”

সিআইটিইউ নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জি বলেন, “হকারদের পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা না দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান মানবিক নয়। প্রয়োজনে রেলমন্ত্রীর কাছেও আমরা যাব। আন্দোলন আরও বৃহত্তর হবে।”

হকারদের দাবি, বহু পরিবার এই ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। সন্তানদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে সংসারের সমস্ত খরচ এই হকারির মাধ্যমেই চলে। তাই বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ হলে বহু পরিবার চরম সংকটে পড়বে।

বর্তমানে সোদপুর স্টেশন চত্বরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও হকার সংগঠনগুলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুনর্বাসন ও লাইসেন্সের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন আগামী দিনেও জারি থাকবে।

Leave a Reply

Translate »
error: Content is protected !!