News Desk
বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ:
একদিকে সমাজসেবার স্বীকৃতিস্বরূপ রাজ্যপালের হাত থেকে স্বর্ণপদক, অন্যদিকে জীবনের কঠিন বাস্তবতায় আর্থিক অনিশ্চয়তা ও অবহেলার দীর্ঘ লড়াই। এ যেন বহরমপুরের বিশিষ্ট মূকাভিনয় শিল্পী সুজিত কুমার দাসের জীবনকথা।
প্রখ্যাত মূকাভিনয় শিল্পী শ্রদ্ধেয় শ্রী যোগেশ দত্তের স্নেহধন্য ছাত্র সুজিত কুমার দাস দীর্ঘদিন ধরে পথ মূকাভিনয়ের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। বিশেষ করে করোনা অতিমারির সময় তিনি একজন “কোভিড সেবা যোদ্ধা” হিসেবে রাস্তায় রাস্তায় মূকাভিনয় পরিবেশন করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। ভারত সরকারের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে করোনা প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা তিনি শিল্পের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবন্ধী শিশু ও যুবকদের মূকাভিনয় নাটকের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। এই সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে রাজ্যপালের হাত থেকে স্বর্ণপদক পুরস্কারে সম্মানিত হন।
একসময় তিনি বহরমপুর মিউনিসিপালিটিতে কর্মরত ছিলেন। তবে সেই চাকরি ছিল অস্থায়ী এবং সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। বর্তমানে তিনি চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সুজিত কুমার দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, বিগত দিনের কর্মক্ষেত্রে তিনি রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও বিভিন্ন চাপের শিকার হয়েছেন, যার ফলে তাঁর কর্মজীবন ও শিল্পীজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও সমাজসেবামূলক অবদানের পরও তিনি উপযুক্ত মূল্যায়ন পাননি বলেই তাঁর আক্ষেপ।
তবে সমস্ত হতাশার মাঝেও তিনি আশাবাদ হারাননি। বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা রেখে তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর দীর্ঘদিনের শিল্পসাধনা, সমাজসেবা এবং বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা হবে এবং তিনি ন্যায্য সম্মান ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা লাভ করবেন।
জিটিভির কাছে নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি সাধারণ মানুষ, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে একজন শিল্পীর জীবনসংগ্রাম ও সমাজের প্রতি তাঁর অবদান নতুন করে মূল্যায়িত হয়।
সংবাদমাধ্যমের কাজ শুধুমাত্র সংবাদ পরিবেশন নয়, সমাজের অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই জিটিভি বহরমপুরের এই গুণী শিল্পীর জীবনসংগ্রাম সকলের সামনে তুলে ধরছে।
একজন শিল্পীর সম্মান শুধু মঞ্চে করতালির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। যিনি সমাজের জন্য নিজের শিল্পকে উৎসর্গ করেছেন, তাঁর কঠিন সময়ে সমাজ ও প্রশাসনের সহমর্মিতাই হতে পারে তাঁর নতুন করে বাঁচার প্রেরণা।

