প্রতিবেদক: মনোজ দাস
কামারহাটি, ৩০ মে:
কামারহাটি পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯ নম্বর ঠাকুর দাস চ্যাটার্জি রোড-এ শুক্রবার দুপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেল। প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ বছরের পুরনো একটি বাড়ির বাইরের অংশ বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে নিচে। এই বাড়িতেই গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি পোস্ট অফিস চালু ছিল।
ঘটনার সময় বাড়ির ভিতরে পোস্ট অফিসের কর্মীরা কাজ করছিলেন। ধসের বিকট শব্দে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভিতরে আটকে পড়া কর্মীদের স্থানীয় মানুষজন দৌড়ে এসে বাইরে বের করে আনেন।
আহত পোস্টম্যান, বাঁচলেন চা বিক্রেতা
ধসের সময় ভিতর থেকে কর্মীরা যখন বেরিয়ে আসছিলেন, তখন ওপর থেকে ইট পড়ে এক পোস্টম্যানের পায়ে আঘাত করে। তিনি আহত হয়েছেন। তবে বড় কোনো প্রাণহানি এড়ানো গেছে।
সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হয়েছিল ওই স্থানে থাকা একটি ভ্যানের চা বিক্রেতার। তাঁর ভ্যানটি ধসে চাপা পড়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু সেই সময় তিনি সেখানে না থাকায় তিনি প্রাণে বাঁচেন। ধসে ওই ভ্যান ও পোস্ট অফিসের এক কর্মীর স্কুটি চাপা পড়ে ধ্বংস হয়েছে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ, ওই অঞ্চলের কাউন্সিলর ও উপপ্রধান তুষার চ্যাটার্জি এবং বাড়ির মালিক সুশান্ত চক্রবর্তী-কে বারবার জানানো হয়েছিল যে বাড়িটি সংস্কার করা দরকার। কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেননি।
শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে হঠাৎ করেই বাড়ির বাইরের অংশ ভেঙে পড়ে। রাস্তাটি অত্যন্ত ব্যস্ত। প্রতি মুহূর্তে এখানে লোকজনের যাতায়াত। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ধসের কিছুক্ষণ আগেই ওই রাস্তা দিয়ে প্রচুর লোক যাতায়াত করছিলেন। কপাল গুণে বেঁচে যান সবাই।
আতঙ্কের মুহূর্ত
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভিতরে আটকে পড়া পোস্ট অফিসের কর্মীদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে যান। একে একে কর্মীদের বের করে আনা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা (প্রত্যক্ষদর্শী) বলেন,
“হঠাৎ ধুমধাম শব্দ। দেখি পুরনো বাড়িটার সামনের অংশ নিচে পড়ে গেছে। পোস্ট অফিসের লোকজন ভিতরে আটকে। আমরা দৌড়ে গিয়ে বের করলাম। একজন পোস্টম্যানের পায়ে ইট পড়েছিল। ভাগ্যিস চা বিক্রেতা তখন সেখানে ছিল না – না হলে বড় বিপত্তি হত।”
প্রশাসনের পদক্ষেপ
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কামারহাটি থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। রাস্তার ওই অংশ অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশ দিয়ে যাতায়াতের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় কাউন্সিলর ও উপপ্রধান তুষার চ্যাটার্জি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের উচ্চতর আধিকারিকদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
পুরনো বাড়ির ট্র্যাজেডি
প্রতিবেশীরা জানান, বাড়িটি প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো। গত ৫০ বছর ধরে এই বাড়িতেই পোস্ট অফিসটি চলে আসছে। বহুদিন আগে থেকেই বাড়িটির অবস্থা ভয়াবহ ছিল। বারবার সংস্কারের দাবি জানালেও কেউ উদ্যোগী হননি।
ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এক স্কুটি ও একটি চায়ের ভ্যান সম্পূর্ণ ধ্বংস
পোস্টম্যান আহত (প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে)
বাড়ির বাইরের অংশ ধসে পড়া
রাস্তার ওপর ধ্বংসস্তূপ
পুলিশ ও পুরসভা কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছে। কবে নাগাদ পুরো এলাকা স্বাভাবিক হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

