প্রতিবেদক: বিনয় রায়
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পার্টি অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা ও বহরমপুরের বিধায়ক অধীর রঞ্জন চৌধুরী তৃণমূল সরকার ও বর্তমান রাজ্য সরকার উভয়ের বিরুদ্ধেই তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের কংগ্রেসের প্রতি আচরণ এবং বর্তমান সরকারের তৃণমূলের প্রতি আচরণের ঘোর বিরোধিতা করেন এবং সন্ত্রাসমুক্ত রাজনীতির কথা বলেন ।
গত ৩০শে মে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর যে হামলা হয়, সে প্রসঙ্গে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “সন্ত্রাসমুক্ত রাজনীতি এই বাংলায় হোক।” তিনি বাংলার পুলিশকেও কটাক্ষ করে জানান, বিধানসভা ভোটের পূর্বে পুলিশ যেভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুরক্ষা দিতে তৎপর ছিল, ভোটের ফলাফলের পরই সেই পুলিশের আচরণ বদলে গেছে ।
উল্লেখ্য, গত ৩০শে মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে পোস্ট-পোল ভায়োলেন্সে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের দেখতে গেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় ডিম ও পাথর ছোড়া হয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আহত হন । তৃণমূলের তরফ থেকে এই হামলাকে বিজেপি-স্পন্সরড বলে অভিযোগ করা হয়, অন্যদিকে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং বলেন এটি “জনরোষের ফলাফল” ।
অধীর রঞ্জন চৌধুরী আরও জানান, বাংলার সাধারণ মানুষ ও বাংলার হকারদের উচ্ছেদ করেই আমরা পরিবর্তনের নতুন রূপ আনতে চলেছি বলে এই নতুন সরকারের তিনি সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, পুনর্বাসনের মাধ্যমে, বিকল্প ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে এবং আলোচনার মাধ্যমেই উচ্ছেদের সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।
প্রসঙ্গত, গত ২০শে মে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বাংলা বিধানসভায় বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন । তার আগে ২২শে মে তৃণমূল নেত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষ কলকাতার শিয়ালদা এলাকায় হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান ।

