“জিরো পয়েন্টেই কাঁটাতারের বেড়া দিতে হবে !” জমি ও ফসল বাঁচাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিক্ষোভে ফুঁসছেন চাষীরা !

“জিরো পয়েন্টেই কাঁটাতারের বেড়া দিতে হবে !” জমি ও ফসল বাঁচাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিক্ষোভে ফুঁসছেন চাষীরা !

Reported By:- Binoy Roy

মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া থানার অন্তর্গত চর কাকমারী সীমান্ত এলাকায় জিরো পয়েন্ট বরাবর কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দাবিতে বুধবার সকালে বিক্ষোভে সামিল হলেন স্থানীয় কৃষকরা। নিজেদের জমি, ফসল এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাহেবনগর বাজার এলাকায় পথ অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান সীমান্তবর্তী গ্রামের শতাধিক কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে সীমান্তের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় জমি মাপজোখের কাজ শুরু হতে দেখেই কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের আশঙ্কা, যদি জিরো লাইন মেনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ না করা হয়, তাহলে বহু কৃষকের হাজার হাজার বিঘা চাষযোগ্য জমি কাঁটাতারের ওপারে চলে যাবে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জমিতে প্রবেশ ও ফসল রক্ষার ক্ষেত্রেও বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।

বিক্ষোভরত কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে সীমান্তে পর্যাপ্ত কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ওপার থেকে গবাদি পশু প্রায়ই সীমান্ত পেরিয়ে এসে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল নষ্ট করে দেয়। এছাড়াও সীমান্ত সুরক্ষার অভাবের কারণে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের আশঙ্কাও বাড়ছে। কৃষকদের দাবি, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে অবশ্যই কাঁটাতার নির্মাণ করতে হবে, তবে তা জিরো লাইন মেনেই করতে হবে যাতে কৃষকদের জমি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

এই দাবিকে সামনে রেখে সাহেবনগর বাজার এলাকায় শেখপাড়া-জলঙ্গী সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। ফলে কিছু সময়ের জন্য ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাগরপাড়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আধিকারিকরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যান। আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা চালান প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

কৃষকদের বক্তব্য, লিখিতভাবে স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যেতে প্রস্তুত ছিলেন। তবে পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলে প্রায় পনেরো মিনিট পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সীমান্তে কাঁটাতারের অবস্থান এবং কৃষিজমির সুরক্ষা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকরা।

Leave a Reply

Translate »