অধীর চৌধুরীর তোপ মুর্শিদাবাদে মন্দির–মসজিদ রাজনীতি ? উন্নয়ন কি হারিয়ে যাচ্ছে মূল স্রোত থেকে !

অধীর চৌধুরীর তোপ মুর্শিদাবাদে মন্দির–মসজিদ রাজনীতি ? উন্নয়ন কি হারিয়ে যাচ্ছে মূল স্রোত থেকে !

Reported BY:- Binoy Roy

বহরমপুর প্রদেশ কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী একযোগে রাজ্য ও দেশের রাজনীতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুললেন। সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক চরিত্র বদলের ইঙ্গিত।

অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, ভগবানপুরে এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তীকে হেনস্থার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ‘জাগো মা’ গান গাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিল্পীকে অপমান করা হয়েছে বলেই অভিযোগ। শুধু তাই নয়, থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা।

মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক আবহাওয়া প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন, পরিযায়ী শ্রমিক, কর্মসংস্থান—এই সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে ছাপিয়ে জেলায় ক্রমশ জায়গা করে নিচ্ছে মন্দির-মসজিদ কেন্দ্রিক রাজনীতি। জাকির হোসেনের “মন্দির-মসজিদ দুটোই করব” মন্তব্য এবং সোমবার হুমায়ুন কবিরের বাবরি মসজিদ ইস্যুকে সামনে রেখে নতুন দল ঘোষণার পরিকল্পনা এই রাজনৈতিক বাস্তবতাকেই সামনে আনছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার রাজনীতি কি তবে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে?

এদিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত মিলছে। ভারতের সেনা প্রধানের সঙ্গে বাংলাদেশের সেনা প্রধানের সাম্প্রতিক ফোনালাপ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মত বিরোধীদের। কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ করছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

দেশের অভ্যন্তরেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মেঘালয়ে জঙ্গি সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে নিকেশ করার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্বাধীনতার পর পূর্ব ভারতে ‘জঙ্গি’ শব্দের ব্যবহার খুব একটা শোনা যায়নি। কাশ্মীর সীমান্তের নাশকতার ছায়া কি তবে দেশের পূর্বাঞ্চলেও পড়তে শুরু করেছে—এই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

রাজ্য রাজনীতিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একের পর এক পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসানো। কৃষ্ণনগর, জঙ্গিপুর, ধূপগুড়ি, চাকদা, হলদিবাড়ি সহ একাধিক পুরসভায় উন্নয়নের কাজ ঠিকঠাক হচ্ছে না—এই কারণ দেখিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করা হচ্ছে। ভোটের আগে চেয়ারম্যান পরিবর্তন করলে অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

এদিকে বছরের শেষের দিনেই রাজ্যে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি সূত্রের খবর, আগামী ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর দুদিনের রাজ্য সফরে এসে তিনি মূলত সাংগঠনিক বৈঠক করবেন। প্রকাশ্য জনসভায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই।

ক্রীড়াজগতেও বিতর্ক থামেনি। যুবভারতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া। তাঁর মতে, খেলার মাঠে খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। রাজনৈতিক নেতা ও অন্যান্যদের ভিড় করে জড়িয়ে ধরা বা হ্যান্ডশেক করা মোটেই সমীচীন নয়। মেসি কাণ্ডে তৃণমূলকে আক্রমণ করে বিজেপি দাবি করেছে, এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী লজ্জিত হয়েছেন।

CAA প্রসঙ্গেও সরব কেন্দ্র। মতুয়া ও নমঃশুদ্র সমাজের মর্যাদার সঙ্গে ভারতে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন আনা হয়েছে বলে এক্স হ্যান্ডলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিজেপির বক্তব্য, বঙ্গে ক্ষমতায় এলে এই সম্প্রদায়ের জন্য আরও কাজ করা হবে।

সবশেষে শোকের খবর বহরমপুর থেকে। প্রয়াত হলেন বহরমপুর পুরসভার কংগ্রেস কাউন্সিলর গোপাল সিংহ। রবিবার সকাল সাতটা দশ মিনিট নাগাদ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। বহরমপুর পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি পরপর তিনবার কংগ্রেসের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছিলেন।

অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই গোপাল সিংহের পরিচিতি ছিল। রাজনৈতিক ভাঙনের মধ্যেও তিনি অধীর চৌধুরীর হাত ছাড়েননি। তাঁর প্রয়াণে সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের এক অধ্যায় শেষ হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Translate »