রিপোর্ট: মনোজ দাস
উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড় পুরসভা ভোটের আগেই যেন চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে। বিজেপি-শাসিত এই পুরসভায় এবার পদত্যাগের হিড়িক লাগিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ৭ কাউন্সিলর ও ভাইস চেয়ারম্যান। খবরটি নিশ্চিত করেছে GTV Live News।
গত কয়েকদিন ধরেই পুরসভা নিয়ে জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত প্রাক্তন চেয়ারম্যান শ্রী প্রশান্ত চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মহম্মদ জলিল, ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সরস্বতী দাস-সহ মোট ৭ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
দলীয় অফিসেই কান্না, নেই নেতৃত্বের সাড়া
জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে হঠাৎ করেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর। তাঁদের অভিযোগ, দলের সাংসদ পার্থ ভৌমিক অথবা জেলা সভাপতি – কেউই তাঁদের ফোন ধরছেন না। বারবার চেষ্টা করেও কোনও দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না তাঁরা।
প্রশান্ত চৌধুরী (প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর) সরাসরি বলেছেন,
“উপরের কেউ যদি কথা না বলেন, তবে কাদের ভরসায় পুরসভায় গিয়ে কাজ করবো? জনতা আমাদের প্রশ্ন করে, দল কী বলছে-আমাদের কিছুই জানানো হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই ইস্তফা দিচ্ছি।”
ভাইস চেয়ারম্যান মহম্মদ জলিল বলেন,
“আমরা কখনও দল ছাড়িনি, কিন্তু দল যেন আমাদের ছেড়ে দিয়েছে। একদিনেও ফোন রিসিভ করলেন না সাংসদ-জেলা সভাপতি। কীভাবে পুরসভায় অধিবেশন করবো?”
বিজেপি বিধায়কের পাল্টা অভিযোগ: দুর্নীতির ভয়ে ইস্তফা
ঘটনার জেরে সরব হয়েছেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক ও বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কাউন্সিলররা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সাধারণ মানুষ আর সেই দুর্নীতি সহ্য করতে পারছেন না। তাই ভয়ে তাঁরা পদত্যাগ করছেন।
বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন,
“ওঁরা দুর্নীতি করে এত টাকা খেয়েছেন যে এখন আর জনতার মুখোমুখি হতে পারছেন না। খতম হবে দুর্নীতি। ওঁরা ভয়েই ইস্তফা দিচ্ছেন, আর অজুহাত দেখাচ্ছেন দল নেই বলে।”
কী হতে পারে পরবর্তী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টিটাগড় পুরসভায় এই পদত্যাগ দলের জন্য বড় ধাক্কা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত পুরসভার ভাঙন নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।
GTV Live News সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও কয়েকজন কাউন্সিলর ইস্তফা দিতে পারেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দলের জেলা নেতৃত্ব তৎপর হচ্ছেন বলে খবর, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

