সরকার গড়তেই দক্ষিণেশ্বরে অমিত শাহ! কড়া নিরাপত্তায় ভবতারিণী মন্দিরে পুজো দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সরকার গড়তেই দক্ষিণেশ্বরে অমিত শাহ! কড়া নিরাপত্তায় ভবতারিণী মন্দিরে পুজো দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Reported BY:- Manoj Das

পশ্চিমবাংলা বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যে বড় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। দীর্ঘদিনের তৃণমূল সরকারের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গিয়েছে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গঠনের আগেই বৃহস্পতিবার দক্ষিণেশ্বর মা ভবতারিণী মন্দিরে পুজো দিতে আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর এই আগমনকে ঘিরে গোটা দক্ষিণেশ্বর এলাকা কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়।

মন্দির চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রক্ষী। সাধারণ মানুষের প্রবেশে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নিরাপত্তার কারণে বহু সাধারণ দর্শনার্থীকে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এলাকাজুড়ে ব্যারিকেড, নাকা চেকিং এবং কড়া নজরদারির ছবি ধরা পড়ে।

অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে উপস্থিত হন বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা ও নবনির্বাচিত বিধায়করা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, নীতিশ প্রামাণিক, শমীক ভট্টাচার্য, কামারহাটির বিজেপি নেতা অরূপ চৌধুরী-সহ বহু কর্মী-সমর্থক। মন্দির চত্বরে বিজেপি কর্মীদের “জয় শ্রী রাম” ধ্বনিতে সরগরম হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্রও বদলাতে শুরু করেছে। তৃণমূল সরকারের আমলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর ঘিরেও একই ধরনের কড়া নিরাপত্তা বলয় দেখা যেত বলে অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন। সেই সময় সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও চলাচলে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ থাকত বলেও অভিযোগ ছিল। এখন পালাবদলের পর দক্ষিণেশ্বরে অমিত শাহের সফরেও একই ধরনের নিরাপত্তা বলয় ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এদিন সাধারণ মানুষের মধ্যে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শোনা যায়—সরকার গঠনের পরে নতুন নেতৃত্ব কি কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবে, নাকি নির্বাচনের সময় যেভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে ভোট চেয়েছিল, সেভাবেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকবে? রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

Leave a Reply

Translate »