প্রতিনিধি: বিনয় রায়
মুর্শিদাবাদ (বহরমপুর), ১ মে ২০২৬: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে বহরমপুর পুরসভার ধোপঘাটি এলাকায় কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীকে মালা পরানোর ঘটনার জের ধরেই কি ভোট মিটতেই সরিয়ে নেওয়া হল এলাকার একমাত্র টিউবওয়েলটি? এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বহরমপুর পুরসভার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, ওই টিউবওয়েলটি তুলে নেওয়ার ফলে গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কটে ভুগছেন ধোপঘাটি এলাকার শতাধিক মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচন ঘোষণার কিছুদিন আগে এলাকায় বেশ কয়েকটি নতুন ট্যাপকল বসানো হলেও তাতে পানের উপযোগী জল আসে না। প্রায় ৬০-৭০টি পরিবার নিয়মিত একটি টিউবওয়েল থেকেই পানীয় জল সংগ্রহ করতেন। ভোট শেষ হতেই টিউবওয়েলটি তুলে নেওয়া হয়। বাসিন্দাদের আপত্তি জানালে তৃণমূল কর্মীরা নতুন টিউবওয়েল বসানোর আশ্বাস দিলেও গত পাঁচ দিনে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার (১ মে) ধোপঘাটি এলাকায় পৌঁছে যান বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অত্যন্ত অমানবিক এই ঘটনা। বহু বছর ধরে এই এলাকার টিউবওয়েলটি ছিল। ভোট মিটতেই কেন তুলে নেওয়া হলো, তা কারও বোধগম্য হচ্ছে না। পুরসভার তরফ থেকে আজকের মধ্যে যদি পুরনো টিউবওয়েলটি বসিয়ে না দেওয়া হয়, তাহলে কাল শনিবার থেকে আমি এই এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে পুরসভার সামনে অনির্দিষ্টকালের ধর্নায় বসবো।”
অন্যদিকে, অধীর চৌধুরীর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে বহরমপুর টাউন যুব তৃণমূল সভাপতি পাপাই ঘোষ বলেন, “নির্বাচনে পরাজয় অনিবার্য জেনে অধীর চৌধুরী এখন পাগল হয়ে গিয়েছেন। একসময় দেশের বিরোধী দলনেতাকে এখন একটা জলের কল নিয়ে রাজনীতি করতে হচ্ছে। তিনি সারা জীবনে কখনও ধোপঘাটির গলিতে ঢোকেননি। এখন লোক দেখানো নাটক করতে সেখানে গিয়েছেন। ৪ তারিখ ফল প্রকাশের পর অধীর চৌধুরী বহরমপুর থেকে ‘প্যাক আপ’ করে চলে যাবেন। আর তাঁর দেখা পাওয়া যাবে না।”
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের দিন বহরমপুর পুরসভার অন্তর্গত কুঞ্জঘাটা এলাকায় ১ নম্বর বুথের কাছে অধীর চৌধুরী পৌঁছালে তাঁকে পাখার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য এক পরিবারের তিন সদস্যকে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার রেশ মেলাতেই এবার পানীয় জলের ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন বহরমপুরের তৃণমূল নেতৃত্ব।
ধোপঘাটি এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, টিউবওয়েলটি তুলে নেওয়ার বিরোধিতা করলে তৃণমূল কর্মীরা তাঁদের জানিয়েছিলেন কিছুদিনের মধ্যেই নতুন টিউবওয়েল বসিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু পাঁচ দিন পার হলেও নতুন টিউবওয়েল না বসানোয় প্রখর গ্রীষ্মে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের।
প্রসঙ্গত, আসন্ন ৪ মে ভোটগণনার আগেই এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অধীর চৌধুরীর ধর্নার হুঁশিয়ারি এবং পুরসভার ভূমিকা নিয়েই এখন নজর থাকবে বহরমপুরের দিকে।