কলকাতা:
ভারতের স্ট্রাকচারাল হার্ট কেয়ারের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপিত হল। কলকাতার ইএম বাইপাসে অবস্থিত মণিপাল হাসপাতালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দিলীপ কুমার এক উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর ওপর সফলভাবে সম্পন্ন করলেন পূর্ব ভারতের প্রথম মাইক্লিপ ট্রান্সক্যাথেটার মাইট্রাল ও ট্রাইকাসপিড ভালভ রিপেয়ার।
এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়েছে মেরিল লাইফ সায়েন্সেস-এর তৈরি স্বদেশি আধুনিক ডিভাইস মাইক্লিপ, যা ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অন্যতম সাফল্য। এই কেসটির মাধ্যমে শুধু পূর্ব ভারতেই নয়, ভারতে এই প্রথমবার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাইকাসপিড ভালভ রিপেয়ার সফলভাবে সম্পন্ন হল।
রোগী রামস্বরূপ (৬০) এক জটিল কার্ডিয়াক প্রোফাইল নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর রোগের মধ্যে ছিল ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি, বাম ভেন্ট্রিকুলার ইজেকশন ফ্র্যাকশন মাত্র ২৫ শতাংশ, গুরুতর মাইট্রাল ও ট্রাইকাসপিড রিগারজিটেশন, পালমোনারি হাইপারটেনশন, সামান্য করোনারি আর্টারি ডিজিজ এবং উচ্চ রক্তচাপ। রোগীর শারীরিক অবস্থা এতটাই সংকটজনক ছিল যে ওপেন হার্ট সার্জারি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

এই পরিস্থিতিতে ডা. দিলীপ কুমার ন্যূনতম ইনভেসিভ ট্রান্সক্যাথেটার পদ্ধতি বেছে নেন। বুক না কেটে ফেমোরাল ভেনাস অ্যাক্সেসের মাধ্যমে মাইক্লিপ (LW-12/6) ডিভাইস ব্যবহার করে গুরুতর মাইট্রাল রিগারজিটেশনকে নগণ্য মাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয় এবং ভালভের সামগ্রিক কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।
চিকিৎসার আগে রোগী সামান্য কাজ করলেই তীব্র শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ক্লান্তি, সোজা হয়ে শুতে অসুবিধা, ঘুমের সমস্যা এবং বুকে চাপ অনুভব করতেন। কিন্তু চিকিৎসার পর দ্রুত তাঁর অবস্থার উন্নতি ঘটে। সহজে শ্বাস নিতে পারা, স্বাভাবিক ঘুম এবং অল্প ব্যথার মধ্য দিয়ে তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
এই সাফল্য প্রসঙ্গে ডা. দিলীপ কুমার বলেন,
“এই কেসটি প্রমাণ করে যে যেসব রোগীর ক্ষেত্রে সার্জারি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তাঁদের জন্য ট্রান্সক্যাথেটার ভালভ রিপেয়ার কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতে তৈরি এই প্রযুক্তি শুধু নিরাপদ ও কার্যকর নয়, বরং দেশের স্ট্রাকচারাল হার্ট কেয়ারে ক্রমবর্ধমান দক্ষতারও প্রতিফলন।”
মেরিল লাইফ সায়েন্সেস-এর তৈরি মাইক্লিপ হল ভারতের প্রথম ট্রান্সক্যাথেটার এজ-টু-এজ রিপেয়ার সমাধান, যা গুরুতর মাইট্রাল রিগারজিটেশনে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি বয়স্ক ও অস্ত্রোপচারের অনুপযোগী রোগীদের জন্য জীবনযাত্রার মান উন্নত করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এই সাফল্য দেখিয়ে দিল, কীভাবে ভারতে বিকশিত চিকিৎসা-উদ্ভাবন ও দক্ষতা মিলিত হয়ে জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নতুন আশার দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।

