মুর্শিদাবাদে মাধ্যমিকের চমক: ৯৬ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে কস্তুরী ও প্রজ্ঞার অসাধারণ সাফল্য

মুর্শিদাবাদে মাধ্যমিকের চমক: ৯৬ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে কস্তুরী ও প্রজ্ঞার অসাধারণ সাফল্য

বিনয় রায়

মুর্শিদাবাদ, ৮ মে, ২০২৬: মধ্য শিক্ষা পর্ষদ প্রকাশিত মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলে একেবারে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদ জেলা। পরীক্ষা শুরুর ৮৪ দিনের মাথায় ফল প্রকাশ করে পর্ষদ। এবার জেলা থেকে মোট ৯৬ হাজার ছাত্র-ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। আর এই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্যে জেলার মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা রাজ্য স্তরেও সফলতার পালক এঁটেছেন।

রাজ্যের প্রথম দশের মেধা তালিকায় জায়াগা করে নিয়েছেন মুর্শিদাবাদের তিন জন মেধাবী শিক্ষার্থী। যা গোটা জেলার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

কস্তুরী সিনহা: বহরমপুরের কৃতি কন্যা

প্রথম দশের মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বহরমপুরের মেধাবী ছাত্রী কস্তুরী সিনহা। কস্তুরী মাধ্যমিকে মোট ৬৮৮ নম্বর অর্জন করে দশম স্থান লাভ করেছেন। তিনি লাধুরাম তসনিওয়াল সারদা বিদ্যামন্দির স্কুলের ছাত্রী। নিজের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনায় এই সাফল্য অর্জন করেছেন বলেই জানিয়েছে কস্তুরী। তার এই সাফল্যে গর্বিত গোটা বহরমপুরবাসী।

প্রজ্ঞা সাহা: রাজ্যে সম্ভাব্য অষ্টম, লক্ষ্য নিটে সাফল্য

মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হতেই যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের গোপালনগর এলাকা। এই এলাকার মেধাবী ছাত্রী প্রজ্ঞা সাহা রাজ্যে সম্ভাব্য অষ্টম স্থান (=690) অধিকার করে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯০। প্রাপ্ত নম্বরের বিচারে তিনিই সম্ভাব্যভাবে মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করেছেন।

প্রজ্ঞার বাবা ও মা দুজনেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকা। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী প্রজ্ঞা বরাবরই স্কুলের প্রথম সারির ছাত্রী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু শুধু পড়াশোনাতেই নয়, সাংস্কৃতিক চর্চাতেও তার সমান আগ্রহ। বিশেষ করে গান তার সবচেয়ে প্রিয় নেশা। পড়াশোনার চাপের মাঝেও গানকে কখনও দূরে সরিয়ে রাখেনি সে।

ফল প্রকাশের পর প্রজ্ঞা জানায়, পড়াশোনার জন্য তার নির্দিষ্ট কোনও সময়সূচি ছিল না। যখনই পড়তে মন চাইত, তখনই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করত। নিজের ইচ্ছাশক্তি এবং নিয়মিত চর্চাকেই সে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করে।

ভবিষ্যতে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে প্রজ্ঞা। তার মূল লক্ষ্য এবার NEET পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একজন দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

প্রজ্ঞার এই অভাবনীয় সাফল্যে খুশির আবহ গোটা পরিবার থেকে শুরু করে গোপনালগর এলাকাজুড়ে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও শিক্ষকরাও শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদে ভরিয়ে তুলেছেন এই কৃতী ছাত্রীকে।

সংবাদটি পাঠিয়েছেন: বিনয় রায়।

Leave a Reply

Translate »