প্রতিবেদক: মনোজ দাস
উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের বাসুদেবপুর এলাকায় শনিবার চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটল। স্থানীয় কাউগাছি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সোনালী বিবির স্বামী শেখ বাবন-কে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরাল পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে শেখ বাবনের বিরুদ্ধে বাসুদেবপুর থানায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
কোমরে দড়ি, এলাকায় ঘোরানো
গ্রেফতারের পর পুলিশ শেখ বাবনকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায়। সেই সময় বিপুল সংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায় জড়ো হন। অভিযুক্তকে দেখে উত্তেজিত জনতা ‘চোর চোর’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্লোগান ও বিক্ষোভ ক্রমশ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি কিছুক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ বাহিনী মোতায়েন
পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত করার চেষ্টা চলে দীর্ঘক্ষণ। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখ বাবনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমছিল। পুলিশের এই পদক্ষেপের পর সেই ক্ষোব প্রকাশ্যে আসে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা (অনামী) বলেন,
“ওর বিরুদ্ধে বহুদিন ধরে অভিযোগ ছিল। কাউকে ভয় দেখানো, জমি দখল, নানান কাজ। পুলিশ আজ পদক্ষেপ নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। এলাকায় ঘোরানো ঠিক হয়েছে।”
কী অভিযোগ?
প্রশ্ন উঠছে, শেখ বাবনের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী অভিযোগ রয়েছে? পুলিশ এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে সূত্রের খবর, একাধিক ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি, চাঁদাবাজি এবং মহিলা পঞ্চায়েত সদস্য (স্ত্রী) হওয়ার সুযোগে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রতিক্রিয়া
এলাকার কাউগাছি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্য সদস্যরা যদিও বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে রাজি হননি। তবে বিজেপি ও স্থানীয় বিরোধীরা পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, শেখ বাবনের পরিবারের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, “তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।”
পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনার জেরে শনিবার দিনভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বাসুদেবপুর এলাকায়। পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ধৃতকে আজই শ্যামনগর মহকুমা আদালতে পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশের এক আধিকারিক বলেন,
“তদন্ত চলছে। যাঁর বিরুদ্ধে যাঁর অভিযোগ, সব খতিয়ে দেখছি। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সক্রিয় আছি।”
GTV Live News-এর পক্ষ থেকে মনোজ দাস জানাচ্ছেন, পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর ঘটনা ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ কেন এই পদ্ধতি অবলম্বন করল, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
লাইভ আপডেট ও ভিডিও প্রতিবেদন দেখুন GTV Live News-এর YouTube, Facebook ও ওয়েবসাইটে।

