News Desk
কলকাতা, ০১ এপ্রিল ২০২৬: আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নারীদের মধ্যে অনিয়মিত মাসিক (Irregular Periods) এবং মুখে অবাঞ্ছিত লোম (Hirsutism)-এর সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুমাত্র সৌন্দর্যগত সমস্যা নয়, বরং শরীরের ভেতরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। বর্তমানে এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে Polycystic Ovary Syndrome বা PCOS।
এই সমস্যাগুলি নারীদের আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে লজ্জা বা সংকোচের কারণে নারীরা এই বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন না, ফলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে।
আয়ুর্বেদের দৃষ্টিতে সমস্যার কারণ
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রস পাল কৌর জানান, এই সমস্যার মূল কারণ বাত ও কফ দোষের অসামঞ্জস্য এবং অগ্নিমান্দ্য (দুর্বল হজম শক্তি)। শরীরে “আম” বা টক্সিন জমে গেলে তা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।
এর ফলে দেখা যায় —
- ডিম্বস্ফোটনে বাধা
- অ্যান্ড্রোজেন হরমোন বৃদ্ধি
- অনিয়মিত মাসিক
- মুখ বা শরীরে অবাঞ্ছিত লোম বৃদ্ধি
প্রাচীন আয়ুর্বেদ গ্রন্থ Charaka Samhita-তে বিরুদ্ধ আহার এবং অনিয়মিত জীবনযাপনকে এই ধরনের সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপকারী আয়ুর্বেদিক ভেষজ
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু আয়ুর্বেদিক ভেষজ এই সমস্যায় উপকারী হতে পারে—
- Shatavari (শতাবরী): হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক
- Ashwagandha (অশ্বগন্ধা): মানসিক চাপ কমিয়ে হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
- Turmeric (হলুদ/কারকিউমিন): প্রদাহ কমাতে সহায়ক
- Cinnamon (দারুচিনি): ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে
- Fenugreek (মেথি): গ্লুকোজ মেটাবলিজম উন্নত করে
(নোট: কোনও ওষুধ গ্রহণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন)
খাদ্য ও জীবনযাপনে পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু জীবনযাত্রার পরিবর্তন এই সমস্যায় কার্যকর হতে পারে—
- তাজা ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ
- জাঙ্ক ফুড ও অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলা
- নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস
- প্রতিদিন ৩০–৪৫ মিনিট ব্যায়াম বা যোগ
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
রোগীদের জন্য বার্তা
ডাঃ রস পাল কৌরের মতে, এই সমস্যা খুবই সাধারণ এবং এর কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব। সময়মতো চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো যায় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।
বিশেষ পরামর্শ সেবা
নারীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ডাঃ রস পাল কৌর একটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছেন।
হেল্পলাইন নম্বর: ৯৯১০৬৭২০২০
এই নম্বরে যোগাযোগ করে নারীরা প্রাথমিক বিনামূল্যে পরামর্শ নিতে পারবেন। সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে সহানুভূতি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।